স্পেনে নতুন বাসায় ওঠার পর প্রথম যে কাজটা করা দরকার, সেটা হলো empadronamiento, অর্থাৎ পৌরসভার খাতায় নিজের নাম তোলা।

কাজটা ছোট, সাধারণত বিনামূল্যে, আর বেশিরভাগ জায়গায় এক বসাতেই হয়ে যায়। কিন্তু এটা না থাকলে স্বাস্থ্যকার্ড, স্কুলে ভর্তি, arraigo, নাগরিকত্ব, প্রায় সবকিছু আটকে যায়।

আর এই লেখার সবচেয়ে জরুরি অংশটা শেষের দিকে: দুই বছর পরপর নবায়ন না করলে আপনার নাম নিজে থেকেই কেটে যায়, এবং অনেকেই সেটা জানেন না।

Padrón municipal হলো কোন পৌরসভায় কে থাকেন তার সরকারি তালিকা। আপনি নাম তুললে সেটাই প্রমাণ করে আপনি ওই শহরে, ওই ঠিকানায় থাকেন।

padrón কোনো residencia নয়। নাম তোলা মানে আপনার কাগজ হয়ে গেছে নয়, আবার কাগজ না থাকলে নাম তোলা যাবে না তাও নয়। দুটো আলাদা জিনিস।

এই শেষ কথাটা গুরুত্বপূর্ণ। কাগজপত্র ছাড়া থাকলেও padrón করা যায়, এবং করা উচিত। পৌরসভা আপনার অভিবাসন পরিস্থিতি extranjería-কে জানায় না। বরং padrón-এর তারিখই পরে প্রমাণ করে আপনি কত দিন ধরে স্পেনে আছেন, যা arraigo-র আবেদনে সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

পৌরসভাভেদে সামান্য পার্থক্য হয়, তবে সাধারণত:

কিছু পৌরসভা সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ বা পানির বিলও চায়, বিশেষ করে চুক্তিতে আপনার নাম না থাকলে। যাওয়ার আগে নিজের পৌরসভার পাতায় তালিকাটা দেখে নিন, কারণ কাগজ কম পড়লে আবার cita নিতে হবে।

এই পার্থক্যটা না জানলে ভুল কাগজ নিয়ে গিয়ে ফিরে আসতে হয়।

certificado-র মেয়াদ সাধারণত তিন মাস ধরা হয়, এবং extranjería প্রায়ই তিন মাসের কম পুরোনো কাগজ চায়। তাই আগেভাগে তুলে রেখে দেবেন না। যে কাজের জন্য দরকার, তার ঠিক আগে তুলুন।

কোনটা লাগবে সেটা যে অফিসে জমা দেবেন তারা বলে দেয়। সন্দেহ হলে certificado নিয়ে যান, কারণ যেখানে volante চলে সেখানে certificado-ও চলে, উল্টোটা নয়।

এটাই সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা, এবং অনেকে এখানেই আটকে যান।

আইনত padrón-এর অধিকার আপনার বাস্তবে সেখানে থাকার সঙ্গে যুক্ত, ভাড়ার চুক্তির সঙ্গে নয়। চুক্তি না থাকলেও পৌরসভা যাচাই করে নাম তুলতে পারে, এই প্রক্রিয়াকে বলে padrón por omisión।

Ayuntamiento-তে গিয়ে সরাসরি বলুন যে আপনি ওই ঠিকানায় থাকেন কিন্তু চুক্তি বা মালিকের অনুমতি জোগাড় করতে পারছেন না, এবং জিজ্ঞেস করুন কীভাবে নাম তোলা যায়। অনেক পৌরসভায় সমাজকর্মী বা পুলিশের যাচাইয়ের মাধ্যমে এটি করা হয়। প্রথমবার না হলে হাল ছাড়বেন না।

যেখানে আপনি থাকেন না সেখানে টাকা দিয়ে নাম তোলা ফৌজদারি অপরাধ, falsedad documental। ধরা পড়লে ভবিষ্যতে arraigo বা নাগরিকত্বের আবেদন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই প্রস্তাব যে দেয়, সে আপনার উপকার করছে না।

এবার সবচেয়ে জরুরি অংশ।

দীর্ঘমেয়াদি residencia নেই এমন অ-ইউরোপীয় বিদেশিদের padrón প্রতি দুই বছর পরপর নবায়ন করতে হয়। না করলে পৌরসভা আপনার নাম কাটিয়ে দেয়, আর আইন অনুযায়ী তার আগে আপনার বক্তব্য শোনার বাধ্যবাধকতাও নেই। ভিত্তি: Ley 7/1985-এর ১৬.১ অনুচ্ছেদ।

কেন এটা এত গুরুত্বপূর্ণ:

পৌরসভা সাধারণত মেয়াদ শেষের তিন মাস আগে চিঠি পাঠায় যে ঠিকানায় আপনি নিবন্ধিত। কিন্তু:

চিঠি ডাকে যায়, এবং সেটি না পৌঁছালেও নাম কাটা আটকায় না। আপনি বাসা বদলেছেন, ডাকবাক্স ভাগাভাগি করেছেন, বা দেশের বাইরে ছিলেন, যেকোনো কারণে চিঠি হাতছাড়া হতে পারে। নবায়নের তারিখ মনে রাখার দায়িত্ব আপনার।

কী করবেন

দীর্ঘমেয়াদি residencia (larga duración) থাকলে এই দুই বছরের নিয়ম প্রযোজ্য নয়। কিছু ক্ষেত্রে ইউরোপীয় নাগরিকের পরিবারের সদস্য এবং আশ্রয়প্রার্থীর কার্ডধারীদেরও ছাড় দেওয়া হয়। আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না, পৌরসভায় জিজ্ঞেস করে নিন।

নতুন পৌরসভায় গিয়ে নতুন করে padrón করতে হবে। পুরোনো পৌরসভা থেকে নাম কাটা সাধারণত নিজে থেকেই হয়ে যায়, আপনাকে আলাদা করে কিছু করতে হয় না।

একই শহরের ভেতরে বাসা বদলালে ঠিকানা হালনাগাদ করতে হবে।

পুরোনো ঠিকানায় নাম রেখে দিলে সরকারি চিঠি সেখানে যেতে থাকবে, আর নবায়নের নোটিশ থেকে শুরু করে extranjería-র চিঠি পর্যন্ত হাতছাড়া হবে। এর মাশুল অনেক বেশি।

Padrón করা এবং volante সাধারণত বিনামূল্যে। কিছু পৌরসভা certificado-র জন্য ছোট একটি ফি নেয়।

কোনো ওয়েবসাইট বা ব্যক্তি "empadronamiento করিয়ে দেওয়ার" জন্য টাকা চাইলে সাবধান হোন। এটি পৌরসভায় নিজে গিয়ে করার কাজ।

বাসায় ওঠার প্রথম সপ্তাহে padrón করুন, আর ওই দিনই ক্যালেন্ডারে দুই বছর পরের একটা রিমাইন্ডার বসিয়ে দিন। এই দুটো কাজ মিলিয়ে দশ মিনিট, আর পরে অনেক বছরের ঝামেলা বাঁচায়।

পৌরসভাভেদে নিয়ম ও কাগজের তালিকা কিছুটা আলাদা হয়। এই লেখাটি সাধারণ দিকনির্দেশনা, আইনি পরামর্শ নয়। যাওয়ার আগে নিজের Ayuntamiento-র সরকারি পাতা দেখে নিন।