পরিবার আনার পর্বে বাইরে থেকে পরিবার আনার প্রক্রিয়া বলা হয়েছে। কিন্তু অনেক পরিবারের ক্ষেত্রে সন্তান স্পেনেই জন্ম নেয়। এই লেখায় সেই সন্তানের রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া, আর একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুল ধারণা ভাঙার চেষ্টা।

স্পেনে জন্ম নিলেই সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্প্যানিশ নাগরিক হয়ে যায় না। আমেরিকার মতো "জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব" (ius soli) স্পেনে পুরোপুরি প্রযোজ্য নয়। বাবা-মা দুজনেই বিদেশি হলে, সন্তানও শুরুতে সেই বিদেশি নাগরিকত্বই বহন করে।

স্পেনে জন্ম নেওয়া প্রতিটা শিশুকেই Registro Civil-এ নথিভুক্ত করতে হয়, বাবা-মায়ের জাতীয়তা যা-ই হোক না কেন।

সন্তান জন্মের রেজিস্ট্রেশন হয়ে যাওয়ার পর, তার নিজস্ব পরিচয়ের জন্য আরও কিছু ধাপ বাকি থাকে:

1. Empadronamiento: সন্তানকে নিজের ঠিকানায় padrón-এ যুক্ত করতে হয়। empadronamiento নিয়ে বিস্তারিত এই পর্বে।

2. TIE: সন্তানের নিজস্ব Tarjeta de Identidad de Extranjero লাগবে (যদি সে স্প্যানিশ নাগরিক না হয়ে থাকে)। TIE রিনিউয়াল ও প্রক্রিয়া নিয়ে এই পর্বে বিস্তারিত আছে, একই প্রক্রিয়া প্রথমবার কার্ড বানানোর জন্যও প্রযোজ্য।

3. NIE: TIE কার্ডের সঙ্গেই সন্তান নিজের NIE নম্বর পেয়ে যায়।

এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। Código Civil-এর অনুচ্ছেদ ২২.২(ক) অনুযায়ী, স্পেনে জন্ম নেওয়া কোনো শিশু মাত্র এক বছরের বৈধ ও ধারাবাহিক বসবাসের পরই স্প্যানিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারে। এটা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রযোজ্য সাধারণ ১০ বছরের নিয়ম, কিংবা arraigo-র মাধ্যমে বসবাসকারীদের জন্য প্রযোজ্য ২ বছরের নিয়মের চেয়েও অনেক দ্রুত।

১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য নাগরিকত্বের আবেদনে CCSE বা DELE, কোনোটাই লাগে না। আবেদনটা বাবা-মা তাদের প্রতিনিধি হিসেবে জমা দেন।

এই আবেদনের সিদ্ধান্ত আসতে সাধারণত ৮ থেকে ১৪ মাস সময় লাগে। ধাপগুলো সংক্ষেপে:

1. জন্মের রেজিস্ট্রেশন (উপরে বলা হয়েছে)

2. Empadronamiento

3. সন্তানের TIE

4. এক বছর বৈধ বসবাস পূর্ণ হলে, নাগরিকত্বের আবেদন জমা দেওয়া

যদি বাবা অথবা মা পরবর্তীতে স্প্যানিশ নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে সন্তানও "opción" (ঐচ্ছিক পথ) নামের একটা আলাদা প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পেতে পারে। এই পথে আগের বসবাসের সময়সীমার শর্ত লাগে না, তবে বাবা বা মায়ের নাগরিকত্বের সনদ আর সন্তানের জন্ম সনদ প্রয়োজন হয়।

স্পেনের Registro Civil-এ নথিভুক্তি স্প্যানিশ প্রশাসনের জন্য যথেষ্ট, কিন্তু বাংলাদেশের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নিজস্ব নিয়ম অনুযায়ী সন্তানের জন্ম বাংলাদেশ দূতাবাসেও নিবন্ধন করে রাখা ভালো অভ্যাস, বিশেষ করে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট বা অন্য কোনো নথির প্রয়োজন হতে পারলে। এই নিয়মগুলো দূতাবাসের নিজস্ব, তাই সরাসরি দূতাবাসে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নেওয়াই ভালো।