স্পেনে এসে অনেকেই প্রথমে ভাবেন, ভাষাটা শেখা কঠিন হবে। কিন্তু একটা খবর আছে যেটা বেশিরভাগ মানুষ দেরিতে বোঝেন:
স্প্যানিশ উচ্চারণ ইংরেজির চেয়ে অনেক সহজ, এবং বাংলাভাষীদের জন্য বিশেষভাবে সহজ।
কারণ স্প্যানিশ যেভাবে লেখা হয়, প্রায় সেভাবেই পড়া হয়। ইংরেজিতে though, through, tough, thought সব আলাদা করে মুখস্থ করতে হয়। স্প্যানিশে এই সমস্যা নেই। নিয়ম শিখলে যেকোনো নতুন শব্দ দেখেই আপনি পড়তে পারবেন।
যেসব জায়গায় বাংলাভাষীরা এগিয়ে আছেন
এই সুবিধাগুলো আপনার আছে, ব্যবহার করুন:
- পাঁচটি স্বরধ্বনি: স্প্যানিশে a, e, i, o, u সবসময় একইভাবে উচ্চারিত হয়। a মানে সবসময় "আ", i মানে সবসময় "ই"। বাংলাতেও স্বরধ্বনি স্থির, তাই এটা আপনার কাছে স্বাভাবিক লাগবে। ইংরেজিভাষীদের এখানে অনেক কষ্ট হয়।
- r ধ্বনি: perro, carro, rojo, এই র-এর কম্পন বাংলাভাষীদের মুখে সহজে আসে। বাংলায় "র" উচ্চারণের অভ্যাস থাকায় এটি আপনার জন্য কঠিন নয়। ইংরেজি বা চীনা ভাষাভাষীদের জন্য এটি মাসের পর মাস অনুশীলনের বিষয়।
- শব্দের শেষে ব্যঞ্জন কম: স্প্যানিশ শব্দ বেশিরভাগ সময় স্বরধ্বনি দিয়ে শেষ হয়, যা বাংলার ছন্দের কাছাকাছি।
প্রথম দিন থেকেই জোরে পড়ুন। মনে মনে পড়লে উচ্চারণ তৈরি হয় না। দিনে দশ মিনিট জোরে পড়া, চুপচাপ এক ঘণ্টা পড়ার চেয়ে বেশি কাজে দেয়।
যে পাঁচটি জায়গায় আটকে যাবেন
এগুলো আগে থেকে জানা থাকলে অনেক সময় বাঁচবে।
১. h সবসময় নীরব
স্প্যানিশে h লেখা হয় কিন্তু উচ্চারণ হয় না।
- hola, উচ্চারণ "ওলা", "হোলা" নয়
- hora, উচ্চারণ "ওরা"
- hospital, উচ্চারণ "ওসপিতাল"
- hijo, উচ্চারণ "ইখো"
বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই h উচ্চারিত হয়, তাই এই অভ্যাস ভাঙতে সময় লাগে। প্রথম কয়েক সপ্তাহ ইচ্ছা করে খেয়াল রাখুন।
২. j এবং g এর খ ধ্বনি
এটি বাংলাভাষীদের জন্য সবচেয়ে বড় ফাঁদ, কারণ j দেখলে আমাদের মুখে স্বাভাবিকভাবে "জ" আসে।
স্প্যানিশে j উচ্চারিত হয় গলার ভেতর থেকে, বাংলা "খ" এর কাছাকাছি:
- trabajo, উচ্চারণ "ত্রাবাখো", "ত্রাবাজো" নয়
- hijo, "ইখো"
- mujer, "মুখের"
- jueves, "খুয়েবেস"
g অক্ষরটি e এবং i এর আগে বসলে একই খ ধ্বনি দেয়:
- gente, "খেন্তে"
- gestión, "খেস্তিওন"
- página, "পাখিনা"
কিন্তু a, o, u এর আগে g স্বাভাবিক "গ":
- gato, "গাতো"
- gobierno, "গোবিয়েরনো"
trabajo শব্দটি আপনি প্রতিদিন ব্যবহার করবেন, কাজের কথা বলতে গেলেই লাগবে। প্রথম দিনেই এটি "ত্রাবাখো" হিসেবে মুখস্থ করে ফেলুন। ভুল উচ্চারণ একবার অভ্যাসে ঢুকে গেলে পরে ছাড়ানো কঠিন।
৩. ll এবং y
দুটো l পাশাপাশি থাকলে সেটি "ল" নয়, বরং "ইয়" এর কাছাকাছি:
- calle (রাস্তা), "কাইয়ে"
- llave (চাবি), "ইয়াবে"
- ella (সে), "এইয়া"
- apellido (পদবি), "আপেইয়িদো"
এই শেষ শব্দটি প্রতিটি সরকারি ফর্মে থাকে, তাই এটি চিনে রাখা কাজে দেবে।
৪. ñ
n এর উপরে ঢেউ চিহ্ন থাকলে সেটি "ন্য" এর মতো শোনায়:
- año (বছর), "আনিও"
- mañana (আগামীকাল বা সকাল), "মানিয়ানা"
- señor (মহাশয়), "সেনিওর"
- España, "এস্পানিয়া"
año এবং ano দুটো আলাদা শব্দ, এবং দ্বিতীয়টির অর্থ ভদ্র নয়। "আমার বয়স পঁচিশ বছর" বলতে গিয়ে ñ বাদ দিলে বিব্রতকর পরিস্থিতি হতে পারে। ঢেউ চিহ্নটি আলাদা অক্ষর, সাজসজ্জা নয়।
৫. b এবং v এর কোনো পার্থক্য নেই
স্প্যানিশে b আর v একই শব্দ দেয়। দুটোই বাংলা "ব" এর কাছাকাছি।
- vivir (বাঁচা), "বিবির"
- trabajar (কাজ করা), "ত্রাবাখার"
- vale (ঠিক আছে), "বালে"
এই কারণে স্প্যানিশরাও মাঝে মাঝে বানান জিজ্ঞেস করার সময় বলেন "be de burro" নাকি "uve", অর্থাৎ কোন b সেটা স্পষ্ট করার জন্য।
জোর কোথায় পড়বে
স্প্যানিশে কোন শব্দাংশে জোর দিতে হবে তার নিয়ম আছে, এবং নিয়ম মাত্র তিনটি।
- শব্দ যদি স্বরধ্বনি, n বা s দিয়ে শেষ হয়, জোর পড়বে শেষ থেকে দ্বিতীয় শব্দাংশে। যেমন: ca-sa, li-bro, jo-ven
- অন্য কোনো ব্যঞ্জন দিয়ে শেষ হলে জোর পড়বে শেষ শব্দাংশে। যেমন: ciu-dad, es-pa-ñol, tra-ba-jar
- যদি শব্দের উপরে চিহ্ন থাকে, জোর সেখানেই। যেমন: mé-di-co, es-tás, in-for-ma-ción
তৃতীয় নিয়মটি সবচেয়ে সুবিধাজনক। চিহ্ন থাকলে আর ভাবতে হয় না, চিহ্ন যেখানে জোর সেখানে।
জোর ভুল হলে অর্থ বদলে যেতে পারে। ha-blo মানে "আমি বলি", কিন্তু ha-bló মানে "সে বলেছিল"। চিহ্নটি ছোট, কিন্তু কালের পার্থক্য তৈরি করছে।
প্রথম সপ্তাহের অনুশীলন
বই কেনার আগে এই কাজটা করুন। খরচ নেই, সময় লাগে দিনে দশ মিনিট।
- আপনার এলাকার রাস্তার নাম আর দোকানের সাইনবোর্ড জোরে পড়ুন। এগুলো আপনি প্রতিদিন দেখেন, তাই মনে থাকে।
- সরকারি চিঠি বা ব্যাংকের কাগজে যেসব শব্দ বারবার আসে সেগুলো আলাদা করে পড়ুন: fecha, nombre, apellido, dirección, firma।
- একই বাক্য তিনবার বলুন। প্রথমবার ধীরে, দ্বিতীয়বার স্বাভাবিক গতিতে, তৃতীয়বার চোখ বন্ধ করে।
নিখুঁত উচ্চারণের অপেক্ষায় বসে থাকবেন না। স্পেনে মানুষ ভাঙা স্প্যানিশ শুনে বিরক্ত হয় না, বরং চেষ্টা দেখলে সাহায্য করে। যিনি ভুল উচ্চারণে প্রতিদিন কথা বলেন, তিনি ছয় মাসে যতটা শেখেন, নিখুঁত হওয়ার অপেক্ষায় চুপ থাকা মানুষ দুই বছরেও ততটা শেখেন না।
এরপর কী
উচ্চারণ ঠিক হয়ে গেলে পরের ধাপ হলো কাজে লাগে এমন বাক্য শেখা, বিশেষ করে সরকারি অফিস, ডাক্তার আর কাজের জায়গার জন্য। সেটি নিয়ে আলাদা লেখা আছে।
এই লেখায় যা আছে তা মুখস্থ করার জিনিস নয়। পড়ে রেখে দিন, আর যখন কোনো শব্দ পড়তে গিয়ে আটকাবেন, ফিরে এসে দেখে নিন।